• Wednesday, 07 December 2022

দুই পক্ষের মারামারির কারণে বিয়ে ভেঙে দিল কনে

দুই পক্ষের মারামারির কারণে বিয়ে ভেঙে দিল কনে

হিন্দুরীতি অনুযায়ী মেনে সাত পাক ঘোরা হয়ে গেছে। বিয়েবাড়িতে সবাই যার যার মতো করে আনন্দ করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এরমধ্যে বর ও কনের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পাত্র এবং পাত্রীপক্ষের লোকদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়।

পাত্রপক্ষের মারধরের কারণে পাত্রীর মামা অসুস্থ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অবশেষে সেই বিয়ে ভেঙে দিলেন পাত্রী। নতুন বউ ছাড়াই পাত্র ঘরে ফিরে গেছেন। গতকাল ২২ নভেম্বর মঙ্গলবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ধূপগুড়ি বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা বলছেন, মধ্য বড়াগাড়ি এলাকার তরুণীর সাথে ফুলবাড়ি এলাকার এক যুবকের সম্বন্ধ করে বিয়ে ঠিক হয়েছিলো। সাত মাস যাবৎদুই পক্ষের কথাবার্তা এগিয়েছিলো। গত সোমবার ছিল তাদের বিয়ে। ওই দিন‌ রাতেই তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানও মিটে যায়। কিন্তু, বাসি বিয়ের নিয়ম নিয়ে পাত্র ও পাত্রীপক্ষের মধ্যে শুরু হয় ঝামেলা।

পাত্রীপক্ষের অভিযোগ যে, মদ্য পান করা অবস্থায় এসে পাত্রপক্ষের লোকজন এসে তাদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছে পাত্রীর মামা। এখানেই এ ঘটনার শেষ নয়।

আরও অভিযোগ, এরপরে পাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে পাত্রপক্ষ। দুই পক্ষের তুমুল লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বরকেই অস্বীকার করে বসলেন কনে। শেষে একাই ঘরে ফেরেন পাত্র।

পাত্রীপক্ষ অভিযোগ করেছে, পাত্রপক্ষের লোকজন তাদের ওপর চড়াও হয়েছে। দুই পক্ষের এ ঝামেলার মধ্যে পাত্র নাকি পাত্রীকে কাঁধে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ সময় পাত্রী বাধা দিলে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

পরিস্থিতি এমন হয় যে দাওয়াতি লোকের বাইরেও অনেকে লেঅক এসে জমায়েত হন। এরপরে বিয়েতে বেঁকে বসেন পাত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই পরিবারের পাত্রের তিনি বিয়ে করবেন না। মেয়ের কথায় সায় দেন তাঁর বাবা-মা এবং আত্মীয়-স্বজনও।

পাত্রী জানান, ‘তাঁরা মদ খেয়ে বিয়ে করতে এসে আমার আত্মীয়দের মারধর করেছেন। বিয়ের দিনই যাঁরা এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন, তাঁরা বিয়ের পর কী করবেন!’

মেয়ের বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় আফসোস নেই বাবা ও মায়েরও। তাঁদের কথায়, ‘মেয়ে বিয়ে না করে ভালোই করেছে।’

অন্যদিকে, পাত্র জানান, ‘কথা ছিল দুই রাতে দুই বিয়ে হবে। কিন্তু তারা একই রাতে বাসি বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিল। তখন বাধা দেওয়ায় পেছন থেকে তাদের কিছু লোক ঝাঁপিয়ে পড়ে।’

তাঁর দাবি, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কনেকে ঘাড়ে করে তুলে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে তুলতে চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম এভাবে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু পাত্রীপক্ষ সেটা ‘অন্যভাবে’ নিয়েছে। মদ খেয়ে বিয়ে করতে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।’

এ ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে যায় ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়রা পাত্রসহ চারজনকে আটকে রেখে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। এরপরে পঞ্চায়েত প্রধানের উপস্থিতিতে সালিসি সভা বসে। এ সভা শেষে এলাকার লোকজন পাত্রকে ছেড়ে দেন।

মেয়ের বিয়েতে এ িরকম ঘটনা ঘটায় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি পাত্রীর বাবা। তিনি (পাত্রীর বাবা) বলেন, ‘ধার করে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছিলাম। সব মাটি হয়ে গেল।’ -সূত্র : আনন্দবাজার

comment / reply_from